গ্রীষ্মকাল এলেই বাংলাদেশে একটাই আলোচনা — এবার কোন আম আগে আসবে? হিমসাগর না গোপালভোগ? এই প্রশ্নটা যে করে, সে নিশ্চিত বাংলাদেশি। কারণ আম এখানে শুধু একটি ফল নয়, এটি একটি আবেগ, একটি সংস্কৃতি, একটি ঋতুবদ্ধ উৎসব।
বাংলাদেশের আম নিয়ে কথা বলতে গেলে শুধু কয়েকটি জাতের নাম বললে চলে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটিতে কেন হিমসাগরের স্বাদ আলাদা হয়, রংপুরের হাঁড়িভাঙার নামের পেছনে কী গল্প আছে, বা ভারতের আলফানসো কেন সারা পৃথিবীতে ‘আমের রাজা’ নামে পরিচিত — এই সব প্রশ্নের উত্তর জানলে আমকে সত্যিকার অর্থে চেনা যায়।
এই সম্পূর্ণ গাইডে আমরা বাংলাদেশের দেশীয় জাত থেকে শুরু করে ভারতের বিখ্যাত জাত এবং বিদেশি হাইব্রিড আম পর্যন্ত ৫০-এর বেশি জাতের পরিচিতি তুলে ধরব। সাথে থাকবে পুষ্টিমান, মৌসুম, উৎপাদন অঞ্চল এবং আম চেনার সহজ কৌশল।
আম কেন এত জনপ্রিয় ফল?
পৃথিবীতে এমন কম ফলই আছে যা এত বিচিত্রভাবে মানুষের জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছে। কাঁচায় আচার, পাকায় রস, শুকিয়ে আমসত্ত্ব — আম প্রতিটি রূপেই সমান জনপ্রিয়।
আমের উৎপত্তি ও ইতিহাস
আম (বৈজ্ঞানিক নাম: Mangifera indica) পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন চাষের ফল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফলবিজ্ঞানী ও আমবিশারদদের মতে, আমের আদি জন্মভূমি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হিমালয়সংলগ্ন পাদদেশ, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বুনো জাতের আমগাছ প্রথম দেখা গিয়েছিল বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়।
পৃথিবীতে প্রায় ৩৫টি প্রজাতির আম আছে এবং কয়েকশো জাত রয়েছে। একসময় আম দক্ষিণ এশিয়ার সীমানায় আবদ্ধ ছিল, কিন্তু পর্তুগিজ নাবিকদের মাধ্যমে পঞ্চদশ শতকের পর থেকে আফ্রিকা, ব্রাজিল ও পশ্চিমের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশে আম চাষের গুরুত্ব
বাংলাদেশে উৎপাদিত ফলের মধ্যে আম সবচেয়ে জনপ্রিয়, এবং দেশের সব ৬৪টি জেলাতেই আম চাষ হয়। বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সর্বাধিক বিখ্যাত। চাষাধীন মোট জমির পরিমাণ, মোট উৎপাদন এবং উৎপাদিত আমের গুণ ও মান বিবেচনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের ‘আমের রাজধানী’ নামে পরিচিত।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশে ২৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছে। আম উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ দশের মধ্যে।
এক নজরে বিভিন্ন জাতের আমের নাম ও ছবি
আমের নাম, স্বাদ ও মৌসুম (সারসংক্ষেপ টেবিল)
| জাতের নাম | স্বাদের ধরন | পাকার সময় | প্রধান অঞ্চল |
| গোপালভোগ | মিষ্টি, আঁশহীন | মে মাসের শেষ | চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী |
| খিরসাপাত/হিমসাগর | অতি মিষ্টি, আঁশহীন | জুনের শুরু | চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী |
| ল্যাংড়া | মিষ্টি ও সুগন্ধি | জুনের প্রথম সপ্তাহ | রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ |
| ফজলি | মিষ্টি, বড় আকার | জুন-জুলাই | চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী |
| আম্রপালি | মিষ্টি, আঁশহীন | জুন-জুলাই | সারাদেশ, বিশেষত নওগাঁ |
| হাঁড়িভাঙা | মিষ্টি, আঁশহীন | জুন | রংপুর |
| আশ্বিনা | হালকা মিষ্টি | সেপ্টেম্বর-অক্টোবর | রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ |
| কাটিমন | মিষ্টি-টক | সারা বছর | রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ |
| গৌরমতি | অতি মিষ্টি | মধ্য মৌসুম | চাঁপাইনবাবগঞ্জ |
| আলফানসো | অতি মিষ্টি, ক্রিমি | এপ্রিল-মে | মহারাষ্ট্র, ভারত |
| দশেহরি | মিষ্টি, সুগন্ধি | জুন-জুলাই | উত্তরপ্রদেশ, ভারত |
| কেশর | মিষ্টি, জাফরানি রং | মে-জুন | গুজরাট, ভারত |
বাংলাদেশের জনপ্রিয় আমের জাতসমূহ
হিমসাগর আম

হিমসাগর বাংলাদেশে এই নামেই বেশি পরিচিত, তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর স্থানীয় এলাকায় একে ‘খিরসাপাত’ বলা হয়। ‘খিরসা’ অর্থ ঘন দুধের মালাই এবং ‘পাত’ অর্থ স্তর — আমের শাঁস এতটাই মোলায়েম ও স্বাদে খিরসার মতো যে এই নাম হয়েছে।
আমটি আকারে গোলাকার, মাঝারি আকৃতির, লম্বায় প্রায় ৮ সেন্টিমিটার এবং ওজনে প্রায় ২৬৪ গ্রাম হয়। পাকলে বোঁটার আশপাশ হলুদ রং ধারণ করে। আমটি আঁশবিহীন, রসাল, গন্ধ আকর্ষণীয় এবং বেশ মিষ্টি। গড় মিষ্টতা ২৩ ভাগ। প্রায় দুইশো বছর আগে ময়মনসিংহের মহারাজা সুতাংশু কুমার আচার্য্য বাহাদুর চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গড়ে তোলা বিশাল আমবাগানে এই জাতের চাষ শুরু হয়েছিল।
২০১৯ সালে এটি ইলিশ ও জামদানির পর বাংলাদেশের তৃতীয় ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। জেলার উৎপাদিত আমের প্রায় ৩০ শতাংশই খিরসাপাত জাতের।
পাকার সময়: ২৮ মে থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ প্রধান অঞ্চল: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা
ল্যাংড়া আম
ল্যাংড়া নামটি শুনে অবাক লাগে, কিন্তু এর পেছনে একটি মজার ইতিহাস আছে। ভারতের এক খোঁড়া (ল্যাংড়া) ফকিরের আস্তানা থেকে এই জাতের আম প্রথম পাওয়া যায়, সেই থেকে এই নামে পরিচিত।
ল্যাংড়া আম দেখতে সবুজ রঙের, পাকলেও বেশিরভাগ সময় সবুজাভ থাকে। স্বাদে মিষ্টি, সুগন্ধযুক্ত এবং আঁশ কম। মাঝারি থেকে বড় আকারের এই আম বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেই সমান জনপ্রিয়।
পাকার সময়: ৬ জুন থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রধান অঞ্চল: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ভারতের বেনারস
ফজলি আম
ফজলি আমের নামকরণের পেছনে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক গল্প। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে মালদহের কালেক্টর র্যাভেন সাহেব ঘোড়ার গাড়িতে গৌড় যাচ্ছিলেন। তৃষ্ণায় এক মহিলার কাছে পানি চাইতে গেলে ‘ফজলু বিবি’ নামক মহিলার বাড়ির আঙিনার আম দিয়ে তাকে আপ্যায়ন করা হয়। সেই থেকে এই আমের নাম ‘ফজলি’।
ফজলি বাংলাদেশের অন্যতম বড় আকারের আম। একেকটি আমের ওজন অনেক সময় ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত হয়। শাঁস হলুদ, মিষ্টি এবং সুগন্ধযুক্ত।
পাকার সময়: ১৫ জুন থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রধান অঞ্চল: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ
আম্রপালি আম

আম্রপালি আমের নামটি এসেছে প্রাচীন ভারতের এক বিখ্যাত নর্তকীর নাম থেকে। ১৯৭১ সালে ভারতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ড. পিযুষ কান্তি মজুমদার ‘দশেরী’ ও ‘নিলম’ জাতের দুটি আমের সংকরায়ণের মাধ্যমে এই হাইব্রিড জাতটি উদ্ভাবন করেন। বাংলাদেশে এই জাতটি আসে ১৯৮৪ সালে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত মোট আমের ২৫ শতাংশই আম্রপালি জাতের। মাত্র এক দশকে এটি ফজলি, হিমসাগর, ল্যাংড়া ও গোপালভোগকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত আমের জাত হয়ে উঠেছে।
আম্রপালি দেখতে লালচে, মাঝারি আকার, মিষ্টি স্বাদ এবং প্রায় আঁশবিহীন। এটি দেশের ৬৪টি জেলায় উৎপাদিত হচ্ছে, তবে নওগাঁ, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়।
পাকার সময়: ১৫ জুন থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি প্রধান অঞ্চল: নওগাঁ, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, সারাদেশ
গোপালভোগ আম
গোপালভোগ মৌসুমের প্রথম দিকে বাজারে আসা জনপ্রিয় জাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। মাঝারি আকারের এই আম দেখতে হলুদাভ সবুজ। স্বাদে মিষ্টি, আঁশ কম এবং রস বেশি।
বাগান মালিক ও চাষিরা রাজশাহীতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০ মে থেকে এই আম নামাতে পারেন।
পাকার সময়: মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রধান অঞ্চল: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী
হাঁড়িভাঙা আম
হাঁড়িভাঙা আমের জন্মস্থান রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেকানী নামক স্থান। এই আমের ইতিহাসের গোড়াপত্তন করেছিলেন নফল উদ্দিন পাইকার নামের এক বৃক্ষবিলাসী মানুষ। শুরুতে এর নাম ছিল ‘মালদিয়া’।
গল্পটি হলো, আমগাছটির গোড়ায় পানি দেওয়ার জন্য নফল উদ্দিন মাটির হাঁড়ি বসিয়ে ফিল্টার পদ্ধতিতে সেচ দিতেন। একদিন কেউ সেই হাঁড়িটি ভেঙে ফেলে। এই ঘটনার কথা মনে রেখেই গাছটির ফলের নাম হয়ে যায় ‘হাঁড়িভাঙা’।
হাঁড়িভাঙা আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু। এর পাতলা ছাল ও অত্যন্ত ছোট আঁটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি আমের ওজন সাধারণত ২০০-৩০০ গ্রাম। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি GI পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে এই আম থেকে বছরে ২৫০ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হয়।
পাকার সময়: জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জুলাই প্রধান অঞ্চল: রংপুর সদর, মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ, নীলফামারী, লালমনিরহাট
খিরসাপাত আম
খিরসাপাত এবং হিমসাগর মূলত একই জাতের আম — রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে খিরসাপাত, বাকি দেশে হিমসাগর নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গেও এই আম হিমসাগর নামে বিক্রি হয়।
ফল বিজ্ঞানীদের মতে, খিরসাপাতি জাতের আমগাছে পুরুষ ফুল ৯১ ভাগ এবং উভয়লিঙ্গ ফুল ৯ ভাগ হয় বলে ফলন তুলনামূলক বেশি হয়।
আশ্বিনা আম
আশ্বিনা আমের বিশেষত্ব হলো এর পাকার সময়। বেশিরভাগ আম জুলাইয়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়, কিন্তু আশ্বিনা পাকে আশ্বিন মাসে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর)। তাই একে নাবি জাতের আম বলা হয়।
রাজশাহীতে নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা নামানো যায়।
পাকার সময়: জুলাই-অক্টোবর প্রধান অঞ্চল: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী
বারি আম-৪
বারি আম-৪ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি উন্নত জাত। এটিও দেরিতে পাকে। রাজশাহীতে ১০ জুলাই থেকে এটি নামানোর অনুমতি দেওয়া হয়।
কাটিমন আম

কাটিমন আম থাইল্যান্ড থেকে আসা একটি বিশেষ জাত, যা বাংলাদেশে এখন সফলভাবে চাষ হচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো বছরে ২-৩ বার ফল পাওয়া যায় — নভেম্বর, ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে গাছে মুকুল আসে এবং সেই অনুযায়ী মার্চ-এপ্রিল, মে-জুন এবং জুলাই-আগস্টে আম পাকে। এই কারণে এটি প্রায় বারোমাসি আম হিসেবে পরিচিত।
দেখতে লম্বাটে ও চিকন, খোসা হালকা সবুজ থেকে হলুদাভ। প্রতিটি আমের ওজন ২০০-৩০০ গ্রামের মতো। স্বাদে মিষ্টি ও হালকা টক-মিষ্টির মিশেল। শাঁস গাঢ় হলুদ, আঁশহীন। হর্টিকালচার সেন্টার বনানী, বগুড়ার তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি বাজারে এই আমের দাম ২০০-২৫০ টাকা কেজি পর্যন্ত থাকে।
পাকার সময়: বছরে তিনবার (বারোমাসি) প্রধান অঞ্চল: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সারাদেশ
রানী পছন্দ আম
রানী পছন্দ আগাম জাতের একটি আম। রাজশাহীতে ২৫ মে থেকে এই আম নামানো শুরু হয়। মিষ্টি ও সুস্বাদু।
সিঁদুরে আম
সিঁদুরে আমের নাম এসেছে এর উজ্জ্বল লালচে রঙ থেকে। পাকলে এই আমে সিঁদুরের মতো লাল রং আসে। তুলনামূলক ছোট আকারের এই আম দেখতে আকর্ষণীয়।
মল্লিকা আম
মল্লিকা একটি হাইব্রিড জাত — দশেরী ও নিলম জাতের সংকরায়ণে তৈরি। মিষ্টি, আঁশবিহীন এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য।
বোম্বাই আম
বোম্বাই আম সাতক্ষীরা অঞ্চলে বেশি পাওয়া যায়। মিষ্টি ও রসালো এই আমের একটি আলাদা সুগন্ধ আছে।
গৌরমতি আম
গৌরমতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি বিশেষ জাত। অতি মিষ্টি এবং আকারে মাঝারি। মধ্য মৌসুমে পাকে। স্থানীয়ভাবে এই আমের বেশ চাহিদা আছে।
ভারতের বিখ্যাত আমের জাত
আলফানসো আম
আলফানসো — বা ‘হাপুস’ — ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত আম এবং বিশ্বব্যাপী ‘আমের রাজা’ উপাধিতে ভূষিত। মহারাষ্ট্রের রত্নাগিরি ও দেবগড় অঞ্চলের কোঙ্কণ উপকূলের মাটি ও সমুদ্রের বাতাসে এই আমের অনন্য স্বাদ তৈরি হয়।
আলফানসো আমের মিষ্টতার পরিমাণ ১৮-২২ ডিগ্রি ব্রিক্স, সম্পূর্ণ আঁশবিহীন, ক্রিমি এবং সাফরান-মধুর মতো সুগন্ধযুক্ত। এটি GI সার্টিফাইড পণ্য (GI নম্বর: AU/11054/GI/139/1264)। এপ্রিল-মে মাসে পাকে এবং সারা বিশ্বে রপ্তানি হয়।
দশেহরি আম
দশেহরি উত্তরপ্রদেশের লখনৌ অঞ্চলের বিখ্যাত আম। মিষ্টি, সুগন্ধযুক্ত এবং আঁশ কম। বাংলাদেশে জনপ্রিয় আম্রপালি এই দশেহরি জাতের সাথে নিলমের সংকরায়ণে তৈরি।
কেশর আম
কেশর আম গুজরাটের জুনাগড় অঞ্চলের একটি প্রিমিয়াম জাত। এর নাম ‘কেশর’ বা জাফরান থেকে এসেছে কারণ এর শাঁস জাফরানের মতো উজ্জ্বল কমলা-হলুদ রঙের। গুজরাটে এটি ‘রাজকীয় আম’ হিসেবে পরিচিত।
বদামী আম
বদামী আম কর্ণাটকের বিখ্যাত জাত। এটি ‘দক্ষিণ ভারতের আলফানসো’ নামেও পরিচিত। আঁশহীন, মিষ্টি ও সুগন্ধযুক্ত।
চৌসা আম
চৌসা বা চাউঁসা পাকিস্তান ও ভারতের অত্যন্ত বিখ্যাত একটি জাত। পাকিস্তানে এটি দেশের সবচেয়ে মিষ্টি আম হিসেবে বিবেচিত। হলুদ রঙ, পাতলা খোসা, সুস্বাদু শাঁস।
তোতাপুরি আম
তোতাপুরি দক্ষিণ ভারতের একটি জাত। দেখতে তোতা পাখির ঠোঁটের মতো বাঁকা, তাই এই নাম। টক-মিষ্টি স্বাদের এই আম আচার ও জুস তৈরিতে বেশি ব্যবহার হয়।
বেনিশান আম
বেনিশান বা বানগানাপল্লি অন্ধ্রপ্রদেশের বড় আকারের সুস্বাদু আম। মিষ্টি, হলুদ রঙ এবং বেশ বড় আকারের।
বিদেশি ও হাইব্রিড আমের জনপ্রিয় জাত
পালমার আম
পালমার ফ্লোরিডা (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে উদ্ভূত একটি আধুনিক জাত। বড় আকার, লালচে বেগুনি রঙ এবং মিষ্টি স্বাদ। এখন বাংলাদেশেও চাষ হচ্ছে।
রেড আইভরি আম
রেড আইভরি থাইল্যান্ড থেকে আসা একটি বিশেষ জাত। পাকলে লালচে-গোলাপি রঙ ধারণ করে। দেখতে অত্যন্ত সুন্দর ও খেতেও সুস্বাদু।
তাইওয়ান রেড আম
তাইওয়ান থেকে আনা এই জাতের আম পাকলে গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে। বাংলাদেশে সম্প্রতি চাষ শুরু হয়েছে।
ব্রুনাই কিং আম
ব্রুনাই কিং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি প্রিমিয়াম জাত। অত্যন্ত বড় আকার এবং মিষ্টি স্বাদের জন্য পরিচিত।
কারাবাও আম
কারাবাও ফিলিপাইনের জাতীয় আম এবং গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বিশ্বের সবচেয়ে মিষ্টি আম হিসেবে স্বীকৃত। মিষ্টতার মাত্রা ২৪ ডিগ্রি ব্রিক্স পর্যন্ত।
নাম ডক মাই আম
নাম ডক মাই থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বিখ্যাত রপ্তানি আম। লম্বাটে আকার, হলুদ রঙ এবং অত্যন্ত মিষ্টি। থাই রেস্তোরাঁয় এই আম দিয়ে তৈরি স্টিকি রাইস একটি বিখ্যাত ডেজার্ট।
কোন আম সবচেয়ে মিষ্টি?
বেশি মিষ্টি আমের তালিকা
মিষ্টতা পরিমাপ করা হয় ব্রিক্স (Brix) স্কেলে। যত বেশি ব্রিক্স মান, তত বেশি মিষ্টি।
খিরসাপাত/হিমসাগরের গড় মিষ্টতা ২৩ ভাগ, যা এটিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে মিষ্টি দেশীয় আমগুলোর একটি করে তোলে। আলফানসো আমের ব্রিক্স মান ১৮-২২ ডিগ্রি। ফিলিপাইনের কারাবাও ২৪ ডিগ্রি ব্রিক্স পর্যন্ত পৌঁছায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মিষ্টি আমের তালিকায় শীর্ষে আছে খিরসাপাত, গৌরমতি, গোপালভোগ এবং হাঁড়িভাঙা।
কম আঁশযুক্ত আমের তালিকা
আঁশ কম বা একেবারে আঁশহীন আমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হিমসাগর/খিরসাপাত, হাঁড়িভাঙা, আম্রপালি, আলফানসো এবং কাটিমন।
বড় আকারের আমের তালিকা
বড় আকারের আমের মধ্যে সবার উপরে ফজলি — একেকটি ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত হয়। এরপর আছে বেনিশান (অন্ধ্রপ্রদেশ), ব্রুনাই কিং এবং আশ্বিনা।
মৌসুম অনুযায়ী আমের জাত
আগাম জাতের আম
রাজশাহীতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সবার আগে ১৫ মে থেকে বাজারে আসে গুটি জাতের আম। এরপর ২০ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে লক্ষণভোগ ও রানী পছন্দ বাজারে আসা শুরু করে।
মধ্য মৌসুমের আম
মধ্য মৌসুমে অর্থাৎ জুনের শুরু থেকে জুলাই পর্যন্ত বাজারে থাকে হিমসাগর/খিরসাপাত (২৮ মে থেকে), ল্যাংড়া (৬ জুন থেকে), ফজলি ও আম্রপালি (১৫ জুন থেকে) এবং হাঁড়িভাঙা (জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে)।
নাবি বা দেরিতে পাকা আম
মৌসুমের শেষ ভাগে যে আমগুলো পাওয়া যায় তার মধ্যে আছে আশ্বিনা ও বারি আম-৪ (১০ জুলাই থেকে)। এরা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া যায়।
আমের জাত চেনার সহজ উপায়

রং দেখে চেনার উপায়
রং একটি সহজ কিন্তু সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়। কিছু আম পাকলেও সবুজ থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ল্যাংড়া পাকলেও সবুজ রঙ বজায় রাখে। হিমসাগর পাকলে বোঁটার দিক হলুদ হয়। আম্রপালি লালচে রঙ ধারণ করে। সিঁদুরে আম টকটকে লাল হয়।
আকৃতি দেখে চেনার উপায়
ফজলি লম্বাটে ও বড়। হিমসাগর গোলাকার ও নাদুসনুদুস। কাটিমন লম্বাটে ও চিকন। আলফানসো ডিম্বাকৃতি। তোতাপুরি ঠোঁটের মতো বাঁকানো।
ঘ্রাণ দেখে চেনার উপায়
ঘ্রাণ আম চেনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। হিমসাগরের গন্ধ স্বতন্ত্র ও আকর্ষণীয়। আলফানসোর ঘ্রাণ সাফরানের মতো। ল্যাংড়া ও দশেহরির নিজস্ব সুগন্ধ আছে যা একবার চিনলে আর ভুল হয় না।
বাংলাদেশের কোন জেলায় কোন আম সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়?
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাংলাদেশের ‘আমের রাজধানী’। এখানে প্রায় ২৫০ জাতের আম চাষ হয়। সবচেয়ে সুস্বাদু ও জনপ্রিয় জাত হলো খিরসাপাত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এক বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়।
রাজশাহী
রাজশাহীতে হিমসাগর, গোপালভোগ, ল্যাংড়া ও ফজলি জাতের উৎপাদন বেশি। একটি বছরে রাজশাহীতে প্রায় দুই লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়।
নওগাঁ
বিশেষজ্ঞদের মতে নওগাঁ এখন আম উৎপাদনে প্রায়ই চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩ অনুযায়ী আম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা নওগাঁ। নওগাঁর প্রধান আম হলো আম্রপালি। এই আমের ওপর ভিত্তি করেই নওগাঁর ব্র্যান্ডিং হয়েছে। এক বছরে নওগাঁয় ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত আম উৎপাদন হয়েছে বলে জানা গেছে।
রংপুর
রংপুর হাঁড়িভাঙা আমের জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে রংপুর সদর, মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জসহ নীলফামারী, লালমনিরহাট ও দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হাঁড়িভাঙা চাষ হচ্ছে।
সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায় হিমসাগর, বোম্বাই ও আম্রপালি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উৎপাদন হয়। প্রায় ৮০ হাজার টন আম এখানে উৎপাদিত হয় এক মৌসুমে।
আম কেনার সময় কী বিষয় খেয়াল করবেন?
প্রথমত ঘ্রাণ নিন। ভালো পাকা আমে বোঁটার কাছ থেকে প্রাকৃতিক মিষ্টি সুগন্ধ আসবে। রাসায়নিক বা অস্বাভাবিক গন্ধ এলে এড়িয়ে যান।
দ্বিতীয়ত, হালকা চাপ দিয়ে দেখুন। পাকা আম হালকা নরম হবে, কিন্তু বেশি পিচ্ছিল হলে বা ভেতরে পচা থাকতে পারে।
তৃতীয়ত, খোসার দিকে লক্ষ্য করুন। মসৃণ খোসা, কোনো কালো দাগ বা অস্বাভাবিক রং না থাকলে আম তাজা। কৃত্রিমভাবে পাকানো আমে অনেক সময় সমান রঙ কিন্তু গন্ধ থাকে না।
চতুর্থত, বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন। গাছ পাকা ও ফরমালিনমুক্ত আমের নিশ্চয়তা দেওয়া বিক্রেতাকে অগ্রাধিকার দিন।
আম এ কত ক্যালরি এবং কী ভিটামিন আছে?
প্রথম আলোতে প্রকাশিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম আমে মাত্র ৬০ ক্যালরি থাকে এবং পাকা আমে ৮০ ভাগ পানি থাকে। কোনো কোলেস্টেরল নেই।

পুষ্টিমান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে ২৭৪০ মাইক্রো গ্রাম ক্যারোটিন, ১৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৬ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ১৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ১ গ্রাম প্রোটিন, ০.৭ গ্রাম ফ্যাট এবং ২০ গ্রাম শ্বেতসার রয়েছে। আমে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই, কে এবং ফোলেট। এতে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ফাইবারও রয়েছে।
দৈনিক চাহিদার ২৫ শতাংশ ভিটামিন ‘এ’ এবং ৭৬ শতাংশ ভিটামিন ‘সি’ আম থেকে মিলতে পারে।
আম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
উপকারিতা
আমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও মৌসুমী রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আমের ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আমের আঁশ হজমে সহায়তা করে এবং আমে থাকা পটাশিয়াম রক্তস্বল্পতা দূর করে ও হৃদযন্ত্র সচল রাখে।
এছাড়া আমে ক্যারোটিন, আইসো-কেরোটিন, গ্যালিক এসিড ইত্যাদি এনজাইম ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
অতিরিক্ত আম খেলে কী হয়?
প্রতি ১০০ গ্রাম আমে প্রায় ১৪ গ্রাম সুগার থাকে, যা তুলনামূলক বেশি। তাই অতিরিক্ত আম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে, বিশেষত ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আম খেলে ওজন বাড়ে বা ডায়াবেটিসের সমস্যা হয় এমন কোনো নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। পরিমিত পরিমাণে খেলে আমের উপকারিতাই বেশি। আমের জুস করে না খেয়ে সরাসরি খাওয়া ভালো, কারণ জুসে ফাইবার থাকে না এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেড়ে যায়।
আম উৎপাদনে বাংলাদেশের স্থান কত?
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে আম উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯ম থেকে ১২তমের মধ্যে। একটি সূত্র জানাচ্ছে অবস্থান ১২তম, অন্য সূত্র বলছে শীর্ষ দশে। আধুনিক পদ্ধতিতে আম চাষ ও উন্নত বিপণন ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে বাংলাদেশের আম বিশ্ববাজারে আরও বড় অবস্থান দখল করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
আম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩ অনুযায়ী আম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা হলো নওগাঁ। এরপর রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, চুয়াডাঙ্গা এবং সাতক্ষীরা।
বাংলাদেশের সবচেয়ে দামি আম
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয় খিরসাপাত/হিমসাগর এবং হাঁড়িভাঙা। GI পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই দুটি আমের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কাটিমনের অফসিজন মূল্যও বেশ চড়া — পাইকারিতেই ২০০-২৫০ টাকা কেজি।
বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় আম কোনটি?
আম্রপালি এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ও বিক্রিত আম। দেশে উৎপাদিত মোট আমের ২৫ শতাংশই আম্রপালি। তবে স্বাদের দিক দিয়ে হিমসাগর/খিরসাপাত মানুষের কাছে বিশেষভাবে পছন্দের।
সবচেয়ে মিষ্টি আমের নাম কী?
বাংলাদেশের মধ্যে খিরসাপাত/হিমসাগর গড় মিষ্টতায় (২৩ ভাগ) সবার আগে। বিশ্বে ফিলিপাইনের কারাবাও আম গিনেস রেকর্ডে সবচেয়ে মিষ্টি হিসেবে স্বীকৃত।
সবচেয়ে বড় আম কোন জাতের?
বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় আম হলো ফজলি। একেকটি ফজলি আম ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত হয়।
হিমসাগর ও খিরসাপাত কি একই আম?
হ্যাঁ, হিমসাগর এবং খিরসাপাত একই জাতের আম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে একে খিরসাপাত বলা হয়, বাকি দেশে হিমসাগর নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গেও এটি হিমসাগর নামে বিক্রি হয়। ২০১৯ সালে GI পণ্য হিসেবে এটি ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত’ নামে নিবন্ধিত হয়েছে।
হাঁড়িভাঙা আম কোথায় বেশি পাওয়া যায়?
হাঁড়িভাঙা আম রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। বর্তমানে রংপুর সদর, বদরগঞ্জ, নীলফামারী ও লালমনিরহাটেও বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হচ্ছে।
বারোমাসি আম কোন জাতের?
বারোমাসি আমের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত জাত হলো কাটিমন (থাইল্যান্ড থেকে আনা)। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি আম-১১ও দেশীয় বারোমাসি আম হিসেবে পরিচিত।
শেষকথা
আম শুধু একটি ফল নয়, এটি বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের পরিচয়ের একটি অংশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাতের গন্ধ থেকে রংপুরের হাঁড়িভাঙার মিষ্টতা — প্রতিটি জাতে লুকিয়ে আছে একটি অঞ্চলের মাটির গল্প, একজন কৃষকের পরিশ্রমের ফসল এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা এক অদৃশ্য ঐতিহ্য।
এই গাইডে আমরা পঞ্চাশটিরও বেশি আমের জাত নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে বাস্তবে বাংলাদেশেই ২৫০-এর বেশি জাতের আম চাষ হয়। প্রতিটি জাতের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, নিজস্ব মৌসুম এবং নিজস্ব অঞ্চল আছে।
আম কেনার সময় শুধু দাম নয়, জাত ও উৎস জেনে কেনার চেষ্টা করুন। স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি কেনা গেলে সেটাই সবচেয়ে ভালো তাজা ফল পাবেন, চাষি ন্যায্য দাম পাবেন এবং বাংলাদেশের আম শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে


